পেছন থেকে কে যেন ডাক দিল ‘এই নীলিমা ।’দুজনেই পেছন ফিরে তাকাল । দেখল এক সুদর্শন
যুবক । আরে এতো নীলিমার দূর সম্পর্কের মাসতুতো দাদা অসীম । যাহোক ঐদিনই অসীমের সাথে
পরিচয় হয় প্রীতির। বেশ কিছুদিন কেটে গেল । প্রীতি কেন যেন মনের কোন একখানে অসীমের
প্রতি টান অনুভব করল । ওদিকে অসীমেরও একই অবস্থা । অসীম প্রায়ই প্রীতিদের হোষ্টেলে
আসতে লাগল প্রীতিকে দেখার জন্য । কিন্তু মনের কথাটি আরবলা হয় না তাকে । এদিকে
প্রীতি এই টান আর সহ্য করতে পারল না । সেই প্রথম বলল ভালবাসারকথাটি । শুরু হল দুটি
জীবনেরএকটি নতুন অধ্যায় । ওদিকে নীলিমা সবই জানতে পারল । সে তাদের সবরকম সহযোগিতা
করতে লাগল । এভাবেই চলছিল এক অবুঝ প্রেম । তারা একসাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত ।
অনেক আনন্দ আর সুখ ছিল সেইদিন গুলোতে । একসময় ওরা সিদ্ধান্ত নিল ওরা বিয়ে করবে ।
গোপনে করেও ফেলল । দুই ফ্যামিলির কেউ জানল না । যাহোক এসব খবর বেশি দিন চাপা থাকে
না । জেনে গেল দুইফ্যামিলি । অসীমরা ছিল ব্রাক্ষ্মন আর প্রীতি নিচু কুষ্টের মেয়ে ।
অসীমের বাবা মা এই বিয়ে মেনে নিল না । প্রীতির বাড়ি থেকেও প্রায় একই সমস্যা হল ।
তবুও তারা বিচ্ছিন্ন হল না । তারা যশোরে একটি বাসা ভাড়া নিল । অসীম তার জমানো টাকা
দিয়ে ছোট খাট একটা ব্যবসা ? ??ুরু করল । বেশ সুখে শান্তীতেই চলছিল তাদের দুজনের
সংসার । কিন্তু হায় ! নিয়তির কি নির্মম পরিহাস । হঠাত্ করেই অসীম অসুস্থ হয়ে পড়ল ।
এরপর হসপিটাল, মেডিকেল চেকাপ, রিপোর্ট । রিপোর্টে জানা গেল অসীম ক্যান্সার আক্রান্ত
। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল প্রীতি । একমুহূর্তেই যেন সমস্ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল সে ।
নিজেকে কোন মতে সামলে নিল । ডাঃ জানাল ৫০লাখটাকা লাগবে । তাহলেই অসীমকে পূর্ণ সুস্থ
করা যাবে । প্রীতি সাথে সাথে অসীমের বাবা মার কাছে গেল অসীমকে নিয়ে । অসীমের বাবা
জানালেন তিনি কোন টাকা দিতে পারবে না । যদিও তিনি ছিলেন প্রচুর সম্পদের মালিক ।
প্রীতি আর দাড়াল না । অসীম কে নিয়ে চলে এল বাবার বাড়ি ।বাবার ছোট একটা ব্যবসা ছিল ।
তার যা পুঁজি ছিল সবটুকুই দিয়ে দিল অসীমের চিকিত্সারজন্য । টাকা ফুরিয়ে গেল
কিছুদিনের মধ্যে । এদিকে অসীমেরও দিন ফুরিয়ে আসছে । একদিন সকাল প্রতি ঘুম থেকে উঠে
অসীম কে ডাকল । কিন্তু ঐদিন অসীম আর ঘুম থেকে উঠল না। প্রীতি নির্বাক পাথর হয়ে গেল
। তার মুখে কোন কথা নেই ,চোখে নেই অশ্রু । শুধু থেকে থেকে একটি কথাই বলছিল “আজ তুমি
কোথায় গেলে আমাকে ছেড়ে , আমাকে কেন বলে গেলে না যে তুমি চলে যাচ্ছ ?” অসীম কে চিতার
আগুনে দগ্ধ করা হল । তখনো প্রীতির চোখে অশ্রুর ফোটা গড়িয়ে পড়ে নি । সে আজ বড় একা ।
৫ বছর পার হয়েছে । তবু এখনো ভোলেনি অসীমের কথা । বিধবার সাজে চাপা কষ্ট নিয়ে আজো
ঘুরে বেড়ায় । তবে সে এখন মাঝে মাঝে কাঁদে । সেআজো অসীমের বড় বাঁধানো ছবি বুকের উপর
নিয়ে ঘুমায় । যখন সে তার জীবনের এই কাহীনিটা বলছিল তার চোখে জলের ধারা দেখেছি আমি ।
জানিনা তুমি কোথায় আছ , কেমন আছ । আজ তোমাকে বড় বেশি মিস করি । যেখানেই থাকো , ভাল
থাকো ।